ওবেসিটি থেকে নানা রোগ
ওবেসিটি থেকে আসতে পারে নানা
সমস্যা। আর এই সমস্যা
ক্ষেত্রবিশেষে মারাত্মক হতে পারে।
শরীরে ওজন যদি খুব বেশি হয় তাহলে
আক্রান্ত হতে পারে হাঁটু দুটি।
ওবেসিটি বা স্থূলতার সংজ্ঞাই হয়ে
গেছে লং টার্ম কমপ্লেক্স ডিজিজ।
বহু মানুষের কাছ থেকে প্রায়ই শোনা
যায়, তেমন কিছুই খাই না, তবুও মোটা
হয়ে যাচ্ছি।
অনেক ক্ষেত্রেই মোটা হয়ে যাওয়াটা
নিজের হাতে থাকে না। এটা হয়
জেনেটিক ফ্যাক্টরের জন্যই। তবে
এটা তো ঠিক, সাধারণত খাবার থেকে
প্রাপ্ত বর্ধিত ক্যালোরিই মোটা
হওয়ার চাবিকাঠি। অতিরিক্ত
ক্যালোরি যদি খরচ না হয়, তাহলে
সেটাই মেদের আকার ধারণ করে ওজন
বাড়ায়। হিসাব বলছে যে, প্রতিদিন যে
অতিরিক্ত ১০০ ক্যালোরি করে গ্রহণ
করা হয়, তাহলে তা বছরের শেষে ৫
কেজি ওজন বাড়িয়ে দেয়। এছাড়াও
ফাস্টফুড, কোল্ডড্রিঙ্কস,
অ্যালকোহলও ওজন বাড়ায়
ভীষণভাবে। আর ওজন বাড়ার সঙ্গে
সঙ্গে বাড়তে থাকে নানা রোগও।
পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, স্থূলকায়
ব্যক্তিদের বেশি আক্রান্ত হয় হাঁটু
দুটি। হাঁটুর বায়ো মেকানিজম লক্ষ্য
করলে দেখা যাবে, ফোর্স ও মোশন
যদি সমানুপাত না হয় তাহলে হাঁটুকে
বর্ধিত চাপ সহ্য করতে হয়। মানে
সহজ কথায় উচ্চতা ও ওজনের
হিসাবটা ঠিক না থাকলেই বিপদ। তাই
স্থূলকায়দের ক্রমাগত হাঁটুতে বেশি
চাপ পড়তে থাকে। ফলে হাঁটুর
কার্টিলেজ ঘষা খেতে খেতে
ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এমনকি হাড়ে হাড়েও
ঘষা খেতে থাকে। ফলে হাঁটুতে ব্যথা
হতে থাকে। এই অবস্থাকেই ডাক্তারি
পরিভাষায় বলে অস্টিও আরথ্রাইটিস।
এটা অবক্ষয়জনিত বাত। স্থূলকায়দের
এই অবক্ষয়জনিত বাত হওয়ার
সম্ভাবনা খুব বেশি। বয়স বাড়ার
সঙ্গে সঙ্গে হাড়েও অবক্ষয় শুরু হয়।
স্থূলতা এতে এক অন্য মাত্রা জুড়ে
দেয়। তাই ক্রমাগত চাপ খেতে খেতে
হাঁটুতে ক্ষয় সময়ের আগেই শুরু হয়।
একথা শুনলে একটুও অবাক হবেন না
যে খেলাধুলোর অভাব, ব্যায়ামের
অভাব, ফাস্ট ফুড খাওয়ার প্রবণতার
জন্য স্কুলের ছাত্রছাত্রীদেরও হাঁটুর
ব্যথায় ভুগতে দেখা যাচ্ছে।
এখন প্রশ্ন আসতে পারে, কীভাবে
বুঝব যে হাঁটুতে সমস্যা আসতে পারে।
অর্থাত্ স্থূলতার জন্য হাঁটুর সমস্যার
উপসর্গ হলো—
– প্রথমে হাঁটুতে অল্প ব্যথা দিয়ে
শুরু হবে, ধীরে ধীরে তার তীব্রতা
বাড়বে।
– সিঁড়ি দিয়ে ওঠানামা করতে অসুবিধা
হবে।
– হাঁটুতে ফ্লুইড জমার জন্য হাঁটু
ফুলে যাবে।
– হাঁটু মুড়লে কড়কড় আওয়াজ হবে।
– পুরনো ধরনের বাথরুমের ব্যবস্থায়
ব্যবহার করতে অসুবিধা হবে।
– বেশিক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকতে অসুবিধা
হবে।
– হাঁটু বেঁকে যেতে শুরু করবে।
তাহলে কী করবেন?
অনেকেই অবশ্য ইচ্ছে করে মোটা হন
না। তবে যারা নিজের স্থূলতা
সম্পর্কে উদাসীন কিংবা জ্ঞানপাপী
তাদের জন্য বলা, ক্যালোরি মেপে
খাবার তালিকা তৈরি করুন। তাই এই
ব্যাপারগুলো সম্পর্কে ওয়াকিবহাল
থাকুন—
– হাঁটুতে ব্যথা শুরু হলে বিশেষজ্ঞ
চিকিত্সকের পরামর্শ নিন।
– খরভব ঝঃুষব সড়ফরভরপধঃরড়হ বা
জীবনযাত্রার পরিবর্তন আনুন।
– একটানা বেশিক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকবেন
না।
– নিয়মিত ব্যায়াম করুন।
– কায়িক শ্রম করুন।
তবে মূল কথা হলো, যাদের মোটা
হওয়ার প্রবণতা আছে, তারা সঠিক
খাবারে অভ্যস্ত হন। প্রয়োজনে
ডায়েটেশিয়ানের পরামর্শ নিন। আর
বিশেষজ্ঞের পরামর্শে ফিজিওথেরাপি
ও যোগব্যায়াম করুন। সবচেয়ে বড়
কথা, নিজে ডাক্তারি না করে কিংবা
ওষুধের দোকান থেকে ব্যথা কমানোর
ওষুধ খেয়ে ব্যথা চেপে রাখবেন না।
যার ভবিষ্যত্ মারাত্মক হতে পারে।
এটা মাথায় রাখতে হবে, সাবধানতার
মার নেই। হাঁটু বাঁচাতে সচেতন হন।
কারণ এটাই সত্যি হবে যে আর্লি
অস্টিওআর্থ্রাইটিস ধীরে ধীরে
অ্যাডভান্স অস্টিওআর্থ্রাইটিসের
আকার ধারণ করলে তখন হাঁটু
বদলানো ছাড়া আর দ্বিতীয় কোনো
বিকল্প চিকিত্সা ব্যবস্থা থাকবে না।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন