Drop Down MenusCSS Drop Down MenuPure CSS Dropdown Menu

তোতলামির জন্য দায়ীজিনগত ত্রুটি

তোতলামির জন্য দায়ী
জিনগত ত্রুটি


‘তোতলামি’ বা কথা বলার বিশেষ
সমস্যার কারণ খুঁজতে শত শত বছর
ধরে চেষ্টা করছেন বিজ্ঞানীরা।
কিন্তু এই দুর্ভোগের কোনো
উত্সসূত্র পাওয়া যায়নি এতোদিন।
সাম্প্রতিক গবেষণা বলছে, জিনগত
ত্রুটির সঙ্গে সম্পর্ক থাকতে পারে
এর। তোতলামি বা কথা বলার
প্রতিবন্ধকতা এমন একটি শারীরিক
ব্যাধি যার কারণে কিছু মানুষ একই
শব্দকে বার বার বলে, অনেক সময়
একটা শব্দকে টেনে অনেক লম্বা করে
বলতে থাকে এবং অনিচ্ছাকৃত এই
সমস্যার কারণে কথা বলার স্বাভাবিক
গতি ব্যাহত হয়।
‘নিউ ইংল্যান্ড জার্নাল অব
মেডিসিন’ সম্প্রতি এই তোতলামির
কারণ সংক্রান্ত এক গবেষণা
প্রতিবেদন ছেপেছে। জিনতত্ত্ববিদ
এবং এই গবেষণা প্রতিবেদনের
অন্যতম রচয়িতা ডেনিস দ্রায়ানা
তাদের অনুসন্ধানের সাফল্য সম্পর্কে
বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন,
তোতলামির কারণ অনুসন্ধানে হাজার
বছর ধরে নানা অনুমান করেছে মানুষ।
অবশেষে আমরা অন্ততপক্ষে এর
কিছুটা হলেও জানতে পেরেছি।
যুক্তরাষ্ট্রের ‘শ্রবণ এবং অন্যান্য
যোগাযোগ প্রতিবন্ধিত্ব বিষয়ক
জাতীয় ইনস্টিটিউট’ বা
‘এনআইডিসিডি’র বিজ্ঞানীরা এই
গবেষণা করেন। এই ইনস্টিটিউটে
দ্রায়না এবং তার সহকর্মীরা
যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন এবং পাকিস্তানের
প্রায় সাড়ে সাতশ’ মানুষের ওপর এই
গবেষণা চালান। এজন্য বেছে নেয়া
হয় তোতলামির সমস্যা আছে এমন
১২৩ জন এবং এই সমস্যা নেই এমন
৯৬ জন পাকিস্তানিকে। এছাড়া
যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রিটেনের ৫৫০
জনকেও বাছাই করা হয় একইভাবে,
যাদের প্রায় অর্ধেকেরই তোতলামির
সমস্যা রয়েছে।
এই গবেষণায় অন্তর্ভুক্ত কিছু
পাকিস্তানিকে আগের এক কাছাকাছি
গবেষণাতেও বেছে নেয়া হয়েছিল।
আগের ওই গবেষণায় বিজ্ঞানীরা
দেখতে পেয়েছিলেন, তোতলামির
সমস্যা আছে এমন ব্যক্তিদের জিনে
‘জিএনপিটিএবি’ নামে একটি বিশেষ
বৈশিষ্ট্য রয়েছে।
নতুন গবেষণার ফলাফল বলছে
তোতলা ব্যক্তিদের জিনে
‘জিএনপিটিএবি’ নামক ‘মিউটেশন’ তো
আছেই বরং একই সঙ্গে এমন আরও
দুটি ‘মিউটেশন’ আছে। এগুলো হলো
‘জিএনপিটিজি’ এবং ‘এনএজিপিএ’।
কিন্তু ‘তোতলা’ নন এমন ব্যক্তিদের
এই তিনটির কোনো ‘জিন মিউটেশন’ই
নেই।
মার্কিন এই গবেষণা প্রতিষ্ঠানটির
পরিচালক জেমস বেটি বলেন, ‘এই
গবেষণাতেই প্রথমবারের মতো
তোতলামির সঙ্গে সম্পৃক্ত হিসেবে
সুনির্দিষ্ট করে কোনো জিন
মিউটেশনকে চিহ্নিত করা সম্ভব
হয়েছে। ফলে এখন তোতলামির
চিকিত্সার সুযোগ নাটকীয়ভাবে বেড়ে
গেল।
‘স্টাটারিং ফাউন্ডেশন’-এর
প্রেসিডেন্ট জেন ফ্রাসের বলেছেন,
এই গবেষণার ফলে অনেক
অভিভাবকের কাঁধ থেকে একটা বোঝা
নেমে গেল। যারা ভাবতেন যে, তাদের
কোনো ভুলের কারণেই সন্তান
তোতলামির সমস্যায় আক্রান্ত হচ্ছে।
ফ্রাসের বলেন, ‘গবেষণা থেকে এটা
স্পষ্ট যে সমস্যাটা শরীরবৃত্তীয়।
তবে ওষুধের মাধ্যমে তোতলামির
শারীরিক চিকিত্সার এখনও অনেক পথ
বাকি বলে মন্তব্য করে তিনি
বলেছেন, এখনও আগের মতোই
থেরাপির মাধ্যমেই চিকিত্সা চালিয়ে
যেতে হবে।পাকিস্তানের লাহোরের
পাঞ্জাব ইউনিভার্সিটি, যুক্তরাষ্ট্রের
ভার্জিনিয়ার ‘হলিন্স কমিউনিকেশন্স
রিসার্চ ইনস্টিটিউট’ এবং ‘ইউএস
ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব হেলথ’ও
‘এনআইডিসিডি’র এই গবেষণায় অংশ
নিয়েছে।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন