Drop Down MenusCSS Drop Down MenuPure CSS Dropdown Menu

সত্য ঘটনা ৭

বাংলাদেশের এই পূণ্যভূমিতে চা বাগানের সংখ্যা প্রায় ১৫০ টিরও বেশী । এত এত ঘটনা রয়েছে এসব চা বাগানকে কেন্দ্র করে যে বলে শেষ করা যাবে না । যারা ঐসব চা বাগানে বাস করেন, তারা তো এসব ঘটনা জানেনই ,যারা বিভিন্ন জেলা হতে চা বাগানে চাকুরীর সুবাদে যান , তারাও এসব ঘটনা শুনে থাকেন , অনেক অভিজ্ঞতাও হয় তাদের সাথে । বলা হয়ে থাকে যে, চা বাগানে চাকুরী করলে এসব ঘটনার সাথে এডজাষ্ট করে নিতে না পারলে হয় আপনি পাগল হয়ে যাবেন , আর নয়তো আপনাকে চাকুরী ছেড়ে দিয়ে চলে আসতে হবে । এক চা বাগানে প্রায়ই রাতের বেলা একটা মেয়েকে চা পাতা তুলতে দেখা যায় । মেয়েটা অল্প বয়সী, খুবই সুন্দরী এবং মায়াবী চেহারার । ঐ চা বাগানে যারা কাজ করে , তারা প্রায় সবাই মেয়েটাকে দেখে । কিন্তু মেয়েটার কাছে যাওয়ার সাহস কারোরই হয় না । চা বাগানে যারা পাহারা দেয় , তাদেরকে চৌকিদার বলে । এক নতুন চৌকিদারের দায়িত্ব পড়লো ঐ চা বাগানে এক রাতে পাহারা দেয়ার জন্য । গভীর রাতে টর্চের আলোয় চৌকিদার দেখলো ,মেয়েটা চা পাতা তুলছে । চৌকিদার এগিয়ে গেলো মেয়েটার কাছে । ধমক দিয়ে বললো , “এই,এত রাতে এইখানে কি ?” মেয়েটার চোখ মুখ শক্ত হয়ে গেল । হিস হিস কন্ঠে চৌকিদারকে বললো , ” এটা আমার চা বাগান । এখানে আমার যা খুশি , তাই করবো । কেউ আমাকে বাধা দিতে পারবেনা ।” মেয়েটার চেহারা বদলাতে লাগলো । কিশোরী মেয়ে থেকে সে একটা বিভত্‍স বৃদ্ধাতে পরিনত হলো । গালে বসন্তের দাগ । মুখ থেকে লালা পড়ছে । চৌকিদার এই রূপ দেখেই অজ্ঞান হয়ে পড়লো । কিছুদিন পর প্রচন্ড কষ্ট ভোগ করে চৌকিদারটা মারা যায় । এক ছেলে রাতের বেলা একা চা বাগানের ভিতর দিয়ে আসছিলো । হঠাৎ সে লহ্ম্য করে যে, একটা কালো কুকুর বাম পাশ থেকে তাকে পাশ কাটাতে চাইছে । ছেলেটা এই ব্যাপার টা জানতো যে , সে যদি এটাকে বাম পাশ থেকে যেতে দেয় , তাহলে তার ভয়াবহ বিপদ হতে পারে । সে এও বুঝতে পেরেছিলো যে এটা মোটেও কোন কুকুর নয় । তাই সে কিছুতেই ওটাকে যেতে দিলো না । বাড়ির কাছাকাছি আসার পর একটা ভয়ানক গোঙানির শব্দ পেয়ে ছেলেটা পিছনে তাকিয়ে দেখলো , কুকুরটা দুই পায়ে ভর দিয়ে দাড়িয়ে ঐ গোঙানির শব্দ করছে । যেন ব্যর্থ আক্রোশে ফুঁসছিলো । ছেলেটার চোখের সামনে ঐটা হঠাৎ মিলিয়ে যায় এবং ছেলেটাও এই ব্যাপার দেখে অজ্ঞান হয়ে পড়ে । এরপর টানা ১৫দিন ছেলেটা কালাজ্বরে ভুগেছিলো ।১০৪ ডিগ্রি জ্বর । কুকুরটা কে পাশ কাটাতে না দেয়ার অপরাধে ! চা বাগানের আশেপাশে অনেক ছোট ছোট ঝর্ণা আছে । স্থানীয় ভাষায় ওগুলোকে ছরা বলে । অনেকেই নাকি রাতের বেলা দেখেছে যে, এক হিন্দু বউ, কপালে সিঁদুর, লাল পাড় দেয়া সাদা শাড়ী পড়ে ছরার একপাশ থেকে অন্যপাশে পার হয় এবং তারপর সাথে সাথে অদৃশ্য হয়ে যায় ! চা বাগানে রাতের বেলা কারো হেটে বেড়ানোর শব্দ পাওয়া যায় । অনেকেই কোন নির্দিষ্ট আকৃতি নেই , এমন ধরনের ছায়া কে চা বাগানে ঘুরে বেড়াতে দেখেছে । অন্ধকারে তাদের দেখা যায় না । চাঁদের আলো থাকলে মাটিতে এসব ছায়া কে দেখা যায়। প্রায়ই গভীর রাতে চা বাগানথেকে চিত্‍কার ভেসে আসে, ” সাআআআবধান !!” কাকে সাবধান করে দেয়া হয় ? কি জন্য ? কেউ জানে না । ভৌতিকতার দিক থেকে সিলেট যে কারণে বিখ্যাত হয়ে আছে , সে কথায় আসছি এখন । ভারতের বর্ডারের কাছে একটা ঘটনা ঘটেছিল । ঢাকার মিরপুরেও নাকি একই ঘটনা ঘটেছে বলে শোনা যায় । কি একটা অদ্ভূত জন্তু এসে নাকি ছোট বাচ্চাদের মাথা , গলা , পেট পর্যন্ত খেয়ে ফেলে !!! সিলেটে এটা নাকি নৈর্মিত্তিক ব্যাপার !!! সিলেটের চা বাগানের লোকেদের কাছে যদি এই ব্যাপারে জানতে চান,তো তারা আপনাকে একটা নামই বলবে । আর সেটা হলো”জুজু !” এই জুজু ওইজা বোর্ডের ডেভিল জোজো নয় । এটা সম্পূর্ণ আলাদা জিনিস । ওইজা বোর্ডের জোজোর কথা না অনেক মানুষ চিনে অথবা জানে ।কিন্তু সিলেটের চা বাগান গুলোতে জুজুর জনপ্রিয়তা
দেখার মত !!! জুজু লোমশ একটা জীব । এর চোখ লাল টকটকে । ছোট বাচ্চাদের দিকেই এর নজর বেশী । এক মহিলা তার বাচ্চা কে ঘুম পাড়িয়ে আরেক রূমে টিভি দেখতে চলে গেল । কাজের মেয়েটা বাচ্চার রূমে এসেই গলা ফাটিয়ে একটা চিত্কার দিল । মহিলা দৌড়ে রূমে এসে দেখলেন কাজের মেয়েটা অজ্ঞান হয়ে পড়ে আছে , আর লোমশ একটা জীব বাচ্চাটাকে জানালা দিয়েনিয়ে যেতে চাইছে । বাচ্চাটা হাত পা ছোড়াছুড়ি করছিল । মহিলাকে দেখেই জীবটা বাচ্চাটাকে ফেলে লাফ দিয়ে চা বাগানের ভিতর হারিয়ে যায় । এক বাচ্চা কোন কারণে খাবারখেতে চাইছিলনা । তার মা তাকেজোর করে খাওয়াতে চেষ্টা করছিলেন । এক পর্যায়ে মহিলা বললেন ,” তাড়াতাড়ি খেয়ে নাও । না হলে জুজু আসবে ।” কাছেই একটা চা বাগান থেকে একটা শব্দ মহিলা শুনতে পেলেন ,”জুজু আসবে ।” মহিলা এটাকে পাত্তা দিলেন না । ভাবলেন যেমনের ভূল ।খানিক পর বাচ্চাটা আবার বাহানা শুরু করলে মহিলা বিরক্ত হয়ে বললেন ,” এই খাও বলছি । জুজু আসবে কিন্তু বলে দিলাম ।” এবার মহিলা আগের বারের মতই কিন্তু অনেক কাছে শব্দ শুনলেন যে ,” জুজু এসেছে !” মহিলা ভয় পেয়ে গেলেন । ব্যাপারটা তার স্বামীকে বলার জন্য বাচ্চাটাকে ডাইনিং রুমে বসিয়ে অন্য রুমে গেলেন । তিনি যখনই তার স্বামীকে এই শব্দের ব্যাপারটা বলছিলেন , হঠাৎ তারা দুজনই শেষ বারের মত শব্দটা শুনলেন । এইবার শব্দটা ছিল এরকম : “জুজু খাচ্ছে !” “জুজু খাচ্ছে !” তারা দৌড়ে ডাইনিং রুমে গেলেন । গিয়ে দেখলেন , কালো লোমশ একটা প্রাণী জানালা দিয়ে দৌড়ে পালাচ্ছে । আর তাদের বাচ্চা ? বাচ্চাটাকে অর্ধেক খেয়ে ফেলা হয়েছে ! জুজু নিয়ে চা বাগানের এটাই সবচেয়ে বিখ্যাত ঘটনা । চা বাগানে প্রায়ই কাজ করার সময় ছোট ছোট বাচ্চা নিখোঁজ হয় । পরে তাদের মাথা কাটা লাশ পাওয়া যায় । কার কাজ কেউই জানে না । আপনার ঘরেও হয়তো ছোট বাচ্চা আছে । তাদের আপনিজুজুর ভয় দেখান ভালো কথা , কিন্তু জুজু থেকে তারা নিরাপদে আছে তো ? চোখের সামনে কচর কচর করে একটা বাচ্চাকে খেয়ে ফেলতে দেখাটা কেমন লাগবে একবার ভাবুন তো?

সত্য ঘটনা

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন