Drop Down MenusCSS Drop Down MenuPure CSS Dropdown Menu

সত্য ঘটনা ১১

ভুলতে পারবেন না আপনারা কেউই! আজ থেকে এগারো বছর আগের কথা … আমাদের গ্রামের বাড়ী ফেনীতে। ওখানে আমার সেজো মামার বিয়ে উপলক্ষে আমাদের সব রিলেটিভ … দেশ ও বিদেশ থেকে সবাই উপস্থিত হয়েছিলো। সেটা ছিল ফেনীর পরশুরামের চন্দনা গ্রামে। আমার ছোটো খালার বাসায়।

Horor stories,bhuter golpo, bhuter kahini, bhuter ghotona, bhut, bangla golpo, bhut bangla
আমাদের গ্রামের ভিতর খালার বাড়ীটা সবচাইতে বড়; কেননা বেশ কিছুদিন আগেই সেটার মেরামত কাজ হয়েছিলো; কিন্তু সবগুলো ঘর হয়নি। একটা ঘর ছিল যেটাতে কেউই যেত না। তার একটা বিশেষ কারনও ছিল। সব আত্মীয়স্বজনরা একসাথে অনেকদিন পর মিলিত হওয়াতে বাড়ীতে থাকার যায়গার অভাব পড়লো, যে কারনে সেই ঘরটাতে থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছিলো। এখন বলছি ঘরটার বিশেষত্বের কথা। আমার ছোটো খালার স্বামী অর্থাৎ আমার ছোটো খালুর আব্বু ছিলেন মওলানা। তিনি জীন হাজির করতে পারতেন এবং তিনি জীন ডেকে মানুষের অনেক সমস্যারও সমাধান দিতেন। তাছাড়া জীন যদি মানুষকে আছর করত, তবে সেই ঘরটিতে বসেই তিনি শরীর থেকে জীন নামাতেন। তো আমাদের ছোটো খালা এই বিষয়ে আমাদের আগে থেকেই সতর্ক করে দিলেন। কিন্তু আমার বড় মামা আর আমার এক কাজিন যার নাম কামরুল, ঠিক করলেন ওই রাতে সেই ঘরের বিছানায় শোবেন। কিন্তু খালা আগেই অনেক করে সাবধান করে দিয়েছিলেন সমস্যা সম্পর্কে; কেননা ওই ঘরটা অনেকদিন ধরেই বন্ধ ছিল। আর এর আগে যারাই ওই ঘরে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলো তারাই কোনোনা কোনও ভয়ঙ্কর কিছু দেখতে পেয়েছে। কিন্তু আমার মামা আর কাজিনের বেলায় কে শোনে কার কথা ! এই একবিংশ শতাব্দীতে এসে কে এই সব বিশ্বাস করে ! কিন্তু বিশ্বাস করাই যে তাদের জন্য শ্রেয় ছিল তা আমরা সকলেই পরে উপলব্ধি করেছিলাম। আমার কাজিন আর মামা যখন রুমে ঘুমিয়ে পড়ল তার কিছুক্ষণ পই আমার কাজিনের চিৎকারে বাসার সবার একসাথে ঘুম ভেঙে গেলো। আমরা সবাই দ্রুত ঐ ঘরে ছুটে গিয়ে আমার কাজিনকে খাটের নিচে আর মামাকে সম্পূর্ণ অচৈতন্য অবস্থায় আবিষ্কার করি। এরপর যখন ওদের মাথায়, মুখে পানি ঢেলে অবস্থার কিছুটা উন্নতি করা হল তখন জানতে পারলাম আসলে ওদের সাথে কি ঘটেছিল। যেটা শোনার প আমার গায়ের রক্ত পানি হয়ে গিয়েছিলো ! আমার কাজিন বলল, সে ঘুমের ভেতর দেখতে পেয়েছিল, কে যেন অনেক জোরে তার গলা টিপে ধরেছে আর তাতে বাধা দেবার চেষ্টা করায় তাকে খাট থেকে ফেলে দেয়া হয়েছে। এমনকি ওর গলায় আঙুলের ছাপও স্পষ্ট পাওয়া গিয়েছিলো ! আরা আমার মামা বললেন যে, খুব ভারী কিছু একটা যেন ওনার বুকের ওপড় বসে জোরে চাপ দিচ্ছিল যাতে বাধা দেয়াতে তাঁকে কষে চড় দিয়ে অজ্ঞান করে দেয়া হয় !

এই ঘটনার ছয় বছর পর, আমার কাজিনের বিয়েতে আবার ছোটো খালার বাসায় আমি যাই। ঘটনাক্রমে আমাকে থাকতে হয় ওই রুমে। সেদিনকার সে ঘটনার কথা আমার মনে ছিল না তখন। কিন্তু রাতে সে ঘরে শুয়ে আমি ভয়ানক সব স্বপ্ন দেখতে লাগলাম। একসময় দেখতে পেলাম কে যেন ভারী কিছু একটা দিয়ে অনেক জোরে আমার পায়ে আঘাত করছে। ঘুম ভেঙে গেলো সাথে সাথেই। উঠে দেখি আমার পাটা এতো ব্যাথা করছে যা বলার মতো নয়। মনে হচ্ছিলো কে যেন আমার পায়ে ক্রিকেটের স্ট্যাম্প দিয়ে জোরে আঘাত করছে। আম্মুকে এই ঘটনা বলার পর আম্মু আমার সাথে থাকতে ওই ঘরে আসলো। যে আম্মু একটু ঘুমিয়েছে অম্নি তিনি ঘুমের মধ্যে দেখতে পেলেন অসম্ভব ভয়ঙ্কর চেহারার একটি মহিলা…সারা শরীরে তার লোম এবং সেগুলো অনেক বড় বড়। হঠাত করে সেটা আম্মুকে একটা খামচি দিয়ে দিল। সাথে সাথেই আম্মুর ঘুম ভেঙে গেলো। আর ঘুম থেকে উঠেই আম্মু শরীরে খামচি দিলে যেমন ব্যাথা লাগে তেমন একটা ব্যাথা অনুভব করতে লাগলো। তাঁর মনে হচ্ছিলো কেউ যেন সদ্য তাঁকে খামচি দিয়ে চলে গেলো।
এই ঘটনার পর সেইদিনই ওই ঘরে মসজিদের ইমাম আর হাফেজদের ডেকে কুরআন খতম দেবার ব্যবস্থা করা হল। এরকম কিছু আর যেন না ঘটে তার জন্য সব কিছুই করা হল।
আজ এতটা বছর পার হয়ে গেলেও এই ঘটনা আমি আজও ভুলতে পারি না। ভুলতে পারবও না কখনো। সম্মানিত পাঠকবৃন্দ, আপনারা আমার যায়গায় থাকলে কি করতেন? ভুলতে পারতেন কি?


কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন