Drop Down MenusCSS Drop Down MenuPure CSS Dropdown Menu

বয়স্ক মানুষের হাঁপানিহলে

বয়স্ক মানুষের হাঁপানি হলে




হাঁপানি কোনো নির্দিষ্ট বয়সের রোগ নয়। এই রোগে যে কোনো বয়সের মানুষই আক্রান্ত হতে পারে। তবে
শিশু, প্রাপ্ত বয়স্ক ও বৃদ্ধদের মধ্যে হাঁপানি ভিন্নভাবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। শিশুদের মধ্যে কাশি ও
শ্বাসকষ্ট, প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে হঠাত্ শ্বাসকষ্টের আক্রমণ এবং বৃদ্ধদের মধ্যে হঠাত্ শ্বাসকষ্ট ছাড়াও সামান্য পরিশ্রমে হাঁপিয়ে পড়ার লক্ষণ প্রকাশ পায়।
শেষ পর্যন্ত অসম্ভব শ্বাসকষ্ট শুরু হয়ে যায়। মনে হবে প্রাণটা এই বুঝি বেরিয়ে গেল। বয়স্কদের মধ্যে এই ঘটনা ঘটার কারণ হলো ক্রনিক ব্রঙ্কাইটিস ও এমপিসিমা। যেখানে প্রাপ্তবয়স্করা দুটি হাঁপানির আক্রমণের মধ্যবর্তী সময়ে স্বাভাবিক থাকে সেখানে বৃদ্ধরা হাঁপানি আক্রমণ ছাড়াও অধিকাংশ সময়েই শ্বাসকষ্টের হাত থেকে রেহাই পান না। যেসব রোগীর অল্প বয়সে হাঁপানি দেখা দেয় তাদের চেয়ে বৃদ্ধ বয়সে হাঁপানি দেখা দিলে কষ্ট হয় বহুগুণ বেশি। একটি দেশের উন্নতি দেশের বয়স্ক মানুষের সংখ্যার ওপর নির্ভর করে। স্বাভাবিক কারণেই বৃদ্ধ বয়সের হাঁপানি রোগ একটি আলাদা গুরুত্ব বহন করে। যদিও হাঁপানি খুবই প্রচলিত রোগ, তবুও বয়স্কদের ওপর এই রোগের প্রকোপ সংক্রান্ত সমীক্ষা নেই বললেই চলে। বর্তমানে ৫০-৬০ বছর বয়স্কদের মধ্যে প্রচুর পরিমাণে এই রোগের প্রভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে বয়স্কদের বুকে চাপ অনুভব, কাশি ও ছোট ছোট শ্বাসই হাঁপানির উপসর্গ হিসেবে প্রকাশ পায়। আবার বুকের চাপকে হাঁপানির উপসর্গ হিসেবে উপেক্ষা করে হৃদরোগের উপসর্গ মনে করার প্রবণতাও যথেষ্ট আছে।
গ্লুকোমা, উচ্চ রক্তচাপের ওষুধ বয়স্কদের হাঁপানির উপসর্গকে বৃদ্ধি করে। আবার হজমের ওষুধ, ডিসপেপসিয়ার ওষুধ, অ্যান্টাসিড হাঁপানির উপসর্গকে কিছুটা কমাতে পারে। তাই বৃদ্ধ বয়সে যারা হাঁপানিতে কষ্ট পান তাদের চিকিত্সা খুব সাবধানে করতে হয়। স্টেরয়েড জাতীয় ওষুধ একনাগাড়ে বেশিদিন ব্যবহার করা ঠিক নয়। এ ধরনের ওষুধ ব্যবহার করার ফলে কাজ হয় ম্যাজিকের মতো কিন্তু শরীরের অস্থিগুলো খুব নরম হয়ে যায়। এতটাই হাড়গোড় নরম হয়ে যায় যে, খুব সামান্য কারণেই শরীরের যে কোনো স্থানের হাড় ভেঙ্গে যেতে পারে। আবার খুব জোরে কাশলে বুকের পাঁজরের হাড়ও ভেঙ্গে যাওয়ার আশঙ্কা খুবই বেশি থাকে। আবার যারা স্টেরয়েড ব্যবহার করেন তাদের যক্ষ্মা রোগ হওয়ার আশঙ্কা থাকে। যেসব বয়স্ক ব্যক্তির প্রস্টেট গ্রন্থিতে গোলমাল আছে তারা যদি বেশিমাত্রায় স্টেরয়েড এবং এফিড্রিন খান তবে তাদের প্রস্রাব বন্ধ হয়ে যেতে পারে। যাদের উচ্চ রক্তচাপজনিত হৃদরোগ আছে তারা যদি অ্যাড্রিনেলিন ইনজেকশন নেন তাহলে মহাবিপদ হওয়ার আশঙ্কা
রয়েছে।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন