Drop Down MenusCSS Drop Down MenuPure CSS Dropdown Menu

জেনে রাখা ভাল

জেনে রাখা ভাল




চোখের মাইনাস পাওয়ার
দৃশ্যমান বস্তু থেকে অসংখ্য আলোকরশ্মি
আমাদের চোখে আপতিত হয়। এ রশ্মি
প্রতিসরিত হয়ে চোখের অভ্যন্তরে
রেটিনায় প্রতিবিম্ব তৈরি করে। এই
প্রতিবিম্ব দৃষ্টিস্নায়ুর সাহায্যে মস্তিষ্কে
প্রেরিত হয়ে দৃশ্যমান বস্তু সম্পর্কে
দৃষ্টির অনুভূতি তৈরি করে। এসব
আলোকরশ্মি যখন রেটিনার সামনে
প্রতিবিম্বিত হয় তখন তা স্বাভাবিক
দৃষ্টির অনুভূতি তৈরি করে না। এ ক্ষেত্রে
‘মাইনাস’ লেন্স চোখের চশমায় লাগিয়ে
আপতিত রশ্মিকে রেটিনায় ফেলা হলে তা
সঠিক অনুভূতি তৈরি করে। মাইনাস
লেন্সকে আমরা ‘মাইনাস পাওয়ার’ বলে
থাকি। চোখের মাইনাস পাওয়ারের
অবস্থানকে ‘মায়োপিয়া’ হিসেবে অভিহিত
করা হয়।
ছদ্ম মায়োপিয়া
অনেক সময় স্বল্পমাত্রার চোখের
পাওয়ারের অসুবিধা কাটিয়ে ওঠার ক্ষেত্রে
চোখ নিজস্ব প্রয়াস চালায়। চোখের
অভ্যন্তরে এক ধরনের মাংসপেশি রয়েছে,
যা এ ক্ষেত্রে চোখের অভ্যন্তরে
লেন্সের আকৃতি পরিবর্তন করে
পাওয়ারজনিত সমস্যার নিরসন করে থাকে।
চোখের অভ্যন্তরে মাংসপেশির সংকোচন এ
কাজটি করে থাকে। অনেক সময় দেখা যায়
পেশির সংকোচন দীর্ঘ সময়ব্যাপী
ক্রিয়াশীল থাকলে তা চোখ ব্যথাসহ
মাথাব্যথার উপসর্গ তৈরি করে। কেবল তাই
নয়, তা দেখার ক্ষেত্রেও সমস্যা তৈরি
করে। চোখ তখন দূরের জিনিস ঝাপসা
দেখতে শুরু করে। এই যে চোখের
অভ্যন্তরে পেশির সংকোচনের কারণে
সমস্যাটির সৃষ্টি হলো, এটি প্রাথমিক
পর্যায়ে নির্ণিত স্বল্প পাওয়ারের
সমস্যাকে অধিক পাওয়ারের সমস্যায়
রূপান্তরিক করে। পেশির অস্বাভাবিক
সংকোচন সারিয়ে তুললে এ সমস্যাটি আর
থাকে না। এ ক্ষেত্রে চোখের চিকিৎসক
যদি তা না করে কেবল পাওয়ারের ত্রুটি
নিরসনের জন্য চশমার পাওয়ার বদল করেন
তাহলে সমস্যার মূল নিসরন হয় না।
সাময়িক উপশমের মাধ্যমে স্বল্প সময়ের
ব্যবধানে নতুন সমস্যা তৈরি হয়। অর্থাত্
চোখের অভ্যন্তরে পেশির সংকোচন
মাত্রাকে বাড়িয়ে দেওয়া হয়। এটি এক
ধরনের দুষ্টচক্র তৈরি করে। এ রকম
ক্ষেত্রে মাইনাস পাওয়ারের অস্বাভাবিক
মাত্রায় বৃদ্ধি ঘটতে থাকে। এই অবস্থানকে
‘ছদ্ম মায়োপিয়া’ বলা হয়। অনেক সময় এ
অবস্থা শিশুদের চোখের একটানা
অতিরিক্ত ব্যবহার থেকেও ঘটতে পারে।
আমাদের গল্পের ক্রিস্টিনার ছেলে চেতনার
ক্ষেত্রে তাই ঘটেছে। চেতনার পাওয়ারের
ত্রুটি ছিল প্রাথমিক পর্যায়ে কম। তার
একটানা পড়ার অভ্যাস, চোখের বিশ্রাম না
নিয়ে চিকিত্সকের কাছে গিয়ে পাওয়ার
বদল তাকে ছদ্ম মায়োপিয়ার রোগীতে
পরিণত করেছে।
এ ক্ষেত্রে যা করণীয়
 ছেলেমেয়েদের কাছের কাজ (যথা
পড়াশোনা, কম্পিউটার, গেম ইত্যাদি)
একটানা বেশি সময় করতে দেওয়া যাবে না।
 পড়াশোনার ফাঁকে চোখের প্রয়োজনীয়
বিশ্রাম নিশ্চিত করতে হবে।
 কম আলোতে পড়াশোনা করা থেকে বিরত
রাখতে হবে।
 চোখের চিকিত্সকের কাছে চোখ
পরীক্ষার জন্য নেওয়ার আগে চোখের
বিশ্রাম নিশ্চিত করতে হবে।
 বিশেষজ্ঞ চিকিত্সকেরও উচিত, রোগীকে
সময় দিয়ে উপসর্গ শোনা ও চোখ পরীক্ষা
করে ব্যবস্থাপত্র দেওয়া।
শেষ কথা
ছদ্ম মায়োপিয়া নিয়ে ভয় পাওয়ার মতো
কিছু নেই। মনে রাখতে হবে, স্বল্প
পাওয়ারজনিত সমস্যা, এমনকি স্বাভাবিক
চোখেই সাধারণত ছদ্ম মায়োপিয়া হয়ে
থাকে। পড়াশোনার চাপ কমার সঙ্গে ছদ্ম
মায়োপিয়া এমনিতেই ভালো হয়ে যায়।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন