Drop Down MenusCSS Drop Down MenuPure CSS Dropdown Menu

আত্মহত্যার কারণ হতে পারে ফোবিয়া!

আত্মহত্যার কারণ হতে পারে ফোবিয়া!
ফোবিয়া গ্রিকশব্দ ফিকস, ফোবস শব্দ
থেকে এসেছে। চিকিৎসাশাস্ত্রে একে
উদ্বেগ সৃষ্টিকারী সর্বাধিক বিস্তৃত
মানসিক রোগ বলে আখ্যা দিয়ে থাকে।
একটি সাধারন জরিপে দেখা গেছে
আমেরিকার জনগণের শতকরা ৫.১ থেকে
২১.৫ হারে এ ধরনের গোপন ব্যাধি নিয়ে
জীবন যাপন করছে। এই পরিমাণ ইউরোপে
এবং অস্ট্রেলিয়ায় বেশি বৈ কম নয়।
প্রতিটি মেয়ের ক্ষেত্রে গড়ে একটি করে
হলেও এ ধরনের প্রতিবন্ধতার উপস্থিতি
লক্ষ করা যায়।
আসলে এই ফোবিয়া কী ধরনের সমস্যা
বয়ে বেড়ায়? (বস্তুত রোগী হিসেবে
আমরা সবাই মনে করে থাকি প্রতিটি
রোগ বিভিন্ন জীবানুবহনকারী বিনাশ বয়ে
বেড়ায়)
ফোবিয়া আমাদের মনের আবেগকে
আলোড়িত করতে পারে এমন একটি
বিশৃংখল এবং অতিমাত্রার ভয় বা উদ্বেগ
সৃষ্টিকারী অবস্থা বিশেষ। সাধারনত ভয়
তখনই ফোবিয়া হিসেবে আগমন করে যখন
এর কোন প্রত্যক্ষ যুক্তি থাকে না।
এটি দুশ্চিন্তালালিত রোগ যা মস্তিস্ক
বিকৃতির জন্য যেমন হয় না তেমন অতি
সাধারন সমস্যা ভেবে প্রতিকার করাও
যায় না। ভয় বা শঙ্কাকে পুঁজি করে
জীবনপ্রেমি মানুষ এই ধরনের আতঙ্কের
আবছায়া থেকে বাঁচতে প্রয়োজনে তার
স্বস্তিময় বা বৈচিত্র্যময় জীবনকে
সীমাবদ্ধ করে ফেলে অথবা বেঁচে থাকার
অংকে ভাগশেষ মেলাতে না পেরে অনেকে
আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়।
তবে হ্যাঁ, আশার কথা হলো সব বয়সেই
চাইলে এ শঙ্কা বা আতঙ্কের রোগটিকে
আমরা জয় করতে পারি।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দি ন্যাশনাল
ইনস্টিটিউট অব মেন্টাল হেলথের জরিপে
প্রায় ২ কোটি প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ কোন
না কোন ফোবিয়ায় আক্রান্ত।
ফোরবিজ ম্যাগাজিনের একটি
আর্টিকেলে ‘আমাদের সর্বাধিক প্রচলিত
ভয়’ শিরোনামে ৯টি বিশেষ আতঙ্ককে
প্রাধান্য দিয়ে বিশেষ সমীক্ষা তুলে ধরা
হয়েছে। তার মধ্যে আর্চনোফবিয়া বা
মাকড়সাভীতি আছে এমন মহিলার সংখ্যা
শতকরা ৫০ ভাগ এবং পুরুষের সংখ্যা
শতকরা ১০ ভাগ পাওয়ার কথা বলা
হয়েছে।
অপর আরেকটি প্রচলিত আতঙ্কের নাম
সোস্যালফবিয়া বা সামাজিক
হেনস্থাভীতি অনেকের মাঝে রয়েছে।
এছাড়া আরও কিছু ফোবিয়া বা ভীতি
রয়েছে যেমন
অফিডিও ফোবিয়া: সর্পভীতি
সাইনোফোবিয়া : কুকুরভীতি
এরোফোবিয়া: উড্ডয়নভীতি
(এরোপ্লেনে চড়ার প্রতি ভয়)
ক্লাসট্রোফোবিয়া: আবদ্ধ বা
সংকীর্ণস্থানে আটকে মরার ভয়
একরোফোবিয়া: উচ্চতাভীতি
হাইড্রোফোবিয়া বা
একুয়াফোবিয়া: জলভীতি
আর্সনফোবিয়া:অগ্নিভীতি
এমন কতগুলো ফোবিয়া আছে যা মানুষ
তা সহজাত বা স্বাভাবিক বলে মেনে
আসছে অথচ তা মানুষের মানসিক
উদ্বেগকে প্রশমিত হতে বা স্বস্তি
প্রদানে বাধা দিচ্ছে।
এন্ড্রোফোবিয়া(মহিলাদের
পুরুষভীতি)
গ্লসোফোবিয়া(জনগনের সামনে
দাড়িয়ে বক্তব্য প্রদানের প্রতি
ভীতি)
এনোক্লোফোবিয়া(ভীড়ভীতি)
এজিরো ফোবিয়া (রাস্তাভীতি
বা রাস্তা পার হওয়া নিয়ে
আতঙ্ক)
এস্ট্রাপো ফোবিয়া
(বজ্রপাতভীতি)
অটোফোবিয়া বা একাকীত্বভীতিকে অতি
স্বাভাবিক এবং প্রাকৃতিক ব্যাপার বলে
মনে করে থাকি তবু মনোরোগ
বিশেষজ্ঞদের মতে কিছু পারিবারিক বিধি,
বংশানুক্রম এবং কিছু মস্তিস্কসংক্রান্ত
সমস্যাতাড়িত হয়ে মানুষ এরকম
আশংকাময় পরিস্থিতিতে পড়ে।
২০০৬ সালে হার্ভাড মেডিকেল স্কুলের
এক সমীক্ষা থেকে জানা যায় লিঙ্গভেদে
এ ফোবিয়ার পরিসংখ্যান ভিন্ন এবং
বৈচিত্র্যময়। সমীক্ষায় আলোচিত হয় যে
কিছু হরমোনগ্রন্থির হরমোন উপস্থিতি
এবং তা নি:সরনের ভিন্নতার কারণেই
মূলত এই পরিসংখ্যানের ভিন্নতা রয়েছে।
আর সে কারণেই
নারীদের উদ্বেগসন্ত্রস্ততা বা
সামাজিক নিরাপত্তাভীতি কোন
না কোনভাবে পুরুষদের চেয়ে
দ্বিগুন
আবার পরুষদের চেয়ে নারীদের
এগোরা ফোবিয়া বা জনগনের
মুখোমুখি হবারভীতি তিনগুনের
চেয়েও বেশি
যেখানে মাত্র ৫-৬ শতাংশ পুরুষ
দুর্ঘটনা পরবর্তী মানসিক চাপ
সামাল দেয় সেখানে ১০-১৪
শতাংশ নারী তা করতে পারে
পরিশেষে ফোবিয়ার রাহুগ্রাসমুক্ত হবার
ক্ষেত্রে চিকিৎসকদের কাছে এর
সমাধানের বিষয়ে জানতে চাইলে তারা
চারটি মূল সমাধানের পথ বাতলে দেন
কাউন্সিলিং
মেডিটেশন
সাইকোথেরাপি
কগনিটিভ বিহেবিয়ার থেরাপি
আমরা খুব শীঘ্রই এর সমাধানভিত্তিক
আলোচনা নিয়ে আপনাদের সামনে
আসবো। তারপরও একটি কথা বলব,
নিজের ভেতরের ফোবিয়ার জাল বিস্তার
বন্ধ রাখতে সমস্যাটি গোপন না রেখে
সবার সাথে শেয়ার করুন। বন্ধু বান্ধব
আত্মীয় স্বজনকে জানাতে না পারলে
আপনার বন্ধু কারখানা ফেসবুকের দেয়ালে
লিখে সবার সাথে শেয়ার করুন, তাতে
সমস্যার ৫০ ভাগ অবলীলায় দূরীভুত হবে।
সবার সঙ্গে সুস্থ বন্ধুত্ব গড়ে তুলুন।
ভাল থাকুন।,

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন